বাংলাদেশের এক নম্বর পেসার হাসান মাহমুদ
আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে বল হাতে দুর্দান্ত একদিন কাটিয়েছেন হাসান মাহমুদ। হ্যাটট্রিকসহ নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। তার নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ধারাবাহিক বোলিংয়ে মুগ্ধ ধারাভাষ্যকাররাও। এই সিরিজে ধারাভাষ্য দেওয়া শ্রীলঙ্কান পারভেজ মাহরুফ মনে করেন, ধীরে ধীরে বাংলাদেশের এক নম্বর পেসার হয়ে উঠেছেন হাসান।
২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্ট দিয়ে অভিষেক হয়েছিল হাসানের। এরপর থেকে নিজের বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছেন, হয়েছেন আরও ধারাবাহিক। ২০২০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে হাসানকে প্রথম দেখার অভিজ্ঞতা থেকে তার উন্নতির প্রশংসা করেছেন পারভেজ মাহরুফ।
তিনি বলেন, ‘আজ হাসানের বোলিংয়ের যে স্পেল, সেটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। ২০২০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলার সময় থেকে আমি তাকে দেখছি। ধীরে ধীরে সে যে জায়গাটায় উন্নতি করেছে, সেটা হলো বোলিংয়ের নিয়ন্ত্রণ। শুরুতে সে ঘণ্টায় ১৩৫ থেকে ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করত, আরও দ্রুত ছিল, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ কম ছিল। ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রামে অভিষেকের পর থেকে সে লাইন ও লেংথের ওপর বেশি মনোযোগী হয়েছে। সবকিছুই ধারাবাহিকতার ব্যাপার। আমার কাছে সে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের এক নম্বর পেসার হয়ে উঠেছে।’
আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই টেস্টে হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি পাঁচ উইকেট নেওয়ার পথে হাসান দেখিয়েছেন নতুন বলের কার্যকর ব্যবহার। নিজের বোলিংয়ের পরিকল্পনা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু সোজা বল করতে চেয়েছি। এটাই। বলকে তার কাজ করতে দিতে চেয়েছি। তাই স্ট্যাম্প টু স্ট্যাম্প বোলিং করে গেছি। বাকিটা বল নিজেই করেছে।’
দিনজুড়ে বোলিংয়ের দৈর্ঘ্য ও সুইং নিয়েও কথা বলেছেন হাসান। তার লক্ষ্য ছিল অফ স্ট্যাম্পের বাইরে সুইং করানো এবং নতুন বলের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
হাসান বলেন, ‘আসলে আমি একটু অ্যাঙ্গেল তৈরি করে বল করার চেষ্টা করেছি, যাতে বল অফ স্ট্যাম্পের বাইরে সুইং করে। নতুন বল যতটা সম্ভব কাজে লাগাতে চেয়েছি। স্টাম্প ও অফ স্ট্যাম্পের লাইনে সোজা বল করে পিচে আঘাত করানোর চেষ্টা করেছি।’
হ্যাটট্রিকের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করতে ডিআরএস নেওয়ার মুহূর্তটিও ছিল তার জন্য বিশেষ। প্রথম ইনিংসে আগের কয়েকটি রিভিউয়ের অভিজ্ঞতা থেকে এবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সতীর্থদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন তারা।
হাসান বলেন, ‘এটা অসাধারণ অনুভূতি। প্রথম ইনিংসে আমরা কয়েকটি ডিআরএস নিয়েছিলাম। তাই সবাই ভাবছিলাম, এবার বলটি স্ট্যাম্পে লাগবে কি না। লিটন দাস ও অধিনায়ক বলছিলেন যে, বলটি স্টাম্পে লাগবে, আমরা রিভিউ নিতে পারি।’
সতীর্থদের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থনও হাসানের কাছে বিশেষ, ‘এটা আমার জন্য বিশেষ কিছু। শেষ বল পর্যন্ত সবাই আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। সতীর্থদের কাছ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’
টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়েও আশাবাদী হাসান। সামনে দেশের মাটিতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্ট খেলার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
হাসান বলেন, ‘আমি এভাবেই এগিয়ে যেতে চাই। সামনে দেশের মাটিতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ আছে, এরপর দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট খেলতে যাব। সামনে বড় বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।
আমরা সত্যের পথযাত্রী