শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ধর্ম

কন্যাসন্তান নিয়ে যা বলেছে পবিত্র কুরআন

কন্যাসন্তান নিয়ে যা বলেছে পবিত্র কুরআন

কন্যাসন্তানের জন্মকে অপমান নয়, সুসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছে পবিত্র কুরআন। মেয়ের প্রতি অবহেলা, উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং বিয়েতে তার মতামত উপেক্ষা করার বিষয়ে ইসলামে রয়েছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা।

পবিত্র কুরআনের সুরা আশ-শূরার ৪৯-৫০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দান করেন, যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দেন। আবার কাউকে পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন এবং কাউকে নিঃসন্তান রাখেন। অর্থাৎ সন্তান ছেলে হবে, নাকি মেয়ে—তা আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তাই কন্যাসন্তানের জন্মের জন্য মাকে দোষারোপ করা অন্যায়।

ইসলামপূর্ব আরব সমাজে কন্যাসন্তানের জন্মকে লজ্জার বিষয় মনে করার প্রবণতা ছিল। সুরা নাহলের ৫৮-৫৯ নম্বর আয়াতে এ মানসিকতার সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে,

وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُم بِٱلْأُنثَىٰ ظَلَّ وَجْهُهُۥ مُسْوَدًّۭا وَهُوَ كَظِيمٌۭ

অর্থ- আর যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে প্রচণ্ড মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে।

আর সুরা তাকভিরের ৮-৯ নম্বর আয়াতে জীবন্ত সমাহিত কন্যাশিশুকে হত্যার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার কথা বলা হয়েছে। এসব আয়াত কন্যাশিশুর প্রতি অবজ্ঞা ও নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেয়।

কন্যাসন্তানকে ভালোভাবে লালন-পালনের প্রতিদান সম্পর্কেও হাদিসে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। সহিহ মুসলিমের ২৬৩১ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) দুটি মেয়েকে সাবালিকা হওয়া পর্যন্ত লালন-পালনকারীর জন্য কিয়ামতের দিন নিজের সান্নিধ্যের সুসংবাদ দিয়েছেন। তাই মেয়ের খাবার, পোশাক ও চিকিৎসার পাশাপাশি শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করাও অভিভাবকের দায়িত্ব।

সর্বশেষ খবর